
উৎসবের আমেজে হলরুমটি হয়ে উঠেছিল হাসি, গান আর রঙিন আলোর মিলনস্থল। নান্দনিক সাজসজ্জা, ফুল, আলো ও সৃজনশীলতায় ভরে উঠেছিল প্রতিটি কোণা। উৎসবের আবহে আয়োজনটি পরিণত হয়েছিল আনন্দ, সঙ্গীত ও ভালোবাসার এক আলোকিত মিলনমেলায়, যা সকলের মনে রাখার মতো হয়ে থাকল। অনুষ্ঠানে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনরা একত্রিত হয়ে হবু বাবা-মাকে শুভেচ্ছা জানান। নতুন জীবনের আগমনের মুহূর্তে উপস্থিত সকলেই তাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানান। হাসি, গান, আড্ডা আর আবেগে ভরা মুহূর্তগুলো সবার মনেই রেখে গেল এক স্মরণীয় ছাপ।
নতুন অতিথিকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর আনন্দে দাদু ওয়ারেন সিটির বাসিন্দা শিব মন্দিরের প্রধান প্রিস্ট পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু ও দিদিমা চন্দনা বানার্জি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তাঁদের পরিকল্পনা ও ভক্তিমূলক উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি পেয়েছিল বিশেষ মাত্রা।

আয়োজনে ছিল কেক কাটা, নাচ-গান ও খাওয়া-দাওয়ার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। চিনু মৃধা, অমিতা মৃধা, কাবেরী দে, শর্মি চক্রবর্তী, সুস্মিতা চৌধুরী, রিংকু ও পিংকু দাস এবং দীপক দে পরিবেশন করেন সুমধুর সংগীত। অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পী পৃথা দেব, যিনি মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করেন। নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন জেসিকা, হৃষিকা, রিয়া, কুয়াশা, অর্পিতা, মৃত্তিকা, স্নেহা ও শ্রুতি। যাঁদের প্রাণবন্ত নাচে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও রঙিন।

কেক কাটার আগে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট দার্শনিক ও চিকিৎসক ড. দেবাশীষ মৃধা, চিনৃ মৃধা,মন্দিরের চিফ কো-অর্ডিনেটর রতন হালদার, সৌরভ চৌধুরী, পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, রাখি রঞ্জন রায়, চন্দনা বানার্জি, সুভাস দাশ প্রমুখ। তাঁদের বক্তব্যে অনিক-কেয়া দম্পতির জন্য শুভকামনা ও নতুন অতিথির আগমনের আনন্দ ফুটে ওঠে।
সন্তানধারণের সাত মাস পূর্ণ হলে হবু মায়ের জন্য সাধারণত এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে এ আয়োজনের ভিন্ন নাম রয়েছে। বাংলাদেশে একে বলা হয় ‘স্বাদ ভক্ষণ’, আর পশ্চিমা সংস্কৃতিতে পরিচিত ‘বেবি শাওয়ার’ নামে।

অনিক-কেয়া দম্পতির এই আয়োজনে প্রতিফলিত হলো পরিবারের উষ্ণতা, প্রীতি ও মিলনমেলার এক অনন্য উদাহরণ। নতুন জীবনের আগমনকে ঘিরে যে আনন্দ আর আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিঃসন্দেহে তাঁদের পরিবার ও পরিমণ্ডলের জন্য হয়ে থাকবে এক চিরস্মরণীয় স্মৃতি।